নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 23 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো গ্রুপের তিন প্রতিষ্ঠান—বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস এবং শাইনপুকুর সিরামিকস—বিগত পাঁচ বছরের (২০২০–২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত) আর্থিক কর্মকাণ্ড বিশেষভাবে খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।
সম্প্রতি কমিশনের এক সভায় এই স্পেশাল অডিটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, ১০টি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে যোগ্যতার ভিত্তিতে কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে। বিএসইসির মূল লক্ষ্য হলো কোম্পানিগুলোর প্রকৃত আর্থিক অবস্থা, আয়ের উৎস এবং সম্ভাব্য অনিয়ম বা বিচ্যুতি সনাক্ত করা।
বিএসইসির নির্দেশনায়, বেক্সিমকো লিমিটেডের নিরীক্ষার জন্য বাসু ব্যানার্জী নাথ অ্যান্ড কোং, এ. ওয়াহাব অ্যান্ড কোং এবং পিকেএফ আজিজ হালিম খায়ের চৌধুরী-কে প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে প্যানেলভুক্ত না থাকা কারণে পিকেএফ আজিজ হালিমের দুই পার্টনার অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের জন্য চারটি প্রতিষ্ঠান শর্টলিস্ট করা হয়েছে, যেখানে প্যানেলভুক্ত না থাকা পার্টনারদের বাদ দিয়ে অডিট কার্যক্রম পরিচালনার শর্ত দেওয়া হয়েছে। শাইনপুকুর সিরামিকসের ক্ষেত্রে একমাত্র প্রতিষ্ঠান এ. ওয়াহাব অ্যান্ড কোং প্রস্তাব জমা দিতে পারবে।
বিএসইসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বড় কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনে কোনো অসঙ্গতি বা প্রশ্ন উঠলে কমিশন তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। এই বিশেষ অডিটের মাধ্যমে ব্যয় ও আয়ের প্রকৃত উৎস পরীক্ষা করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে আইন অনুসারে পদক্ষেপ গ্রহণ সহজ হয়। মূলত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই গত পাঁচ বছরের হিসাব নতুন করে নিরীক্ষা করা হচ্ছে।
শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি এবং বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, বেক্সিমকো গ্রুপের এই তিন কোম্পানি দীর্ঘদিন তাদের বার্ষিক ও ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদন সময়মতো দাখিল করতে ব্যর্থ হচ্ছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত হিসাবসহ চলতি বছরের কোনো আর্থিক প্রতিবেদন সময়মতো জমা দেয়নি বেক্সিমকো লিমিটেড, যা অন্য দুই কোম্পানির ক্ষেত্রেও একই। এছাড়া স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা এবং উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা সম্প্রতি স্থগিত হওয়ায় কমিশন এখন কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারছে।
সবশেষে, বকেয়া থাকা পর্ষদ সভাগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য বেক্সিমকো, বেক্সিমকো ফার্মা এবং শাইনপুকুর সিরামিকসকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ১৫ জানুয়ারি-এর মধ্যে বোর্ড সভা করার জন্য কোম্পানির পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান আর্থিক কর্মকর্তাদের কাছে কড়া বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
নিরীক্ষা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোম্পানিগুলোর প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতা প্রকাশ পেলে বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদে সঠিক ক্যাশ ফ্লো ও ডিভিডেন্ডের বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
Posted ৭:১৪ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.